ফোন-মানিব্যাগ-গাড়ি বাড়িতেই, কালো পোশাকে বেরিয়ে নিখোঁজ ডমিনিক কোথায়?
নিউইয়র্কে মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ ৩৫ বছরের ডমিনিক বিয়ানকি; পুলিশ বলছে দ্রুত খোঁজ পাওয়া জরুরি, জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
ফোন-মানিব্যাগ-গাড়ি বাড়িতেই, কালো পোশাকে বেরিয়ে নিখোঁজ ডমিনিক কোথায়?
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইস্ট গ্রিনবুশে ৩৫ বছর বয়সী ডমিনিক বিয়ানকি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে ব্যাপকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর সকালে নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এবং পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়েছে।
পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিয়ানকিকে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ইস্ট গ্রিনবুশের ফরেস্ট পয়েন্ট ড্রাইভ এলাকার নিজ বাড়ির কাছাকাছি সর্বশেষ দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শেষ দেখার সময়ে সামান্য পার্থক্য থাকলেও মঙ্গলবার সকালেই তিনি নিখোঁজ হন—এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য একই।
নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ বিয়ানকির মুঠোফোন, মানিব্যাগ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি—তিনটিই বাড়িতে পড়ে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে তিনি কোথায় গেছেন, কীভাবে সেখানে পৌঁছেছেন বা বর্তমানে তার কাছে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিয়ে পরিবার ও তদন্তকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ানকির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। তার বাদামি চুল, দাড়ি এবং নীলচে-সবুজ চোখ রয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল কালো ঘামের প্যান্ট এবং কালো লম্বা হাতার জামা। তার মাথায় কালো বা অন্য কোনো বেসবল টুপি থাকতে পারে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
তার শরীরে কয়েকটি সহজে শনাক্তযোগ্য উল্কিচিহ্ন রয়েছে। বুকের অংশে খুলি ও গোলাপের নকশা, ডান হাতে একটি বেসবলের নকশা এবং পিঠে ক্রুশের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে কাউকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব চিহ্ন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিয়ানকির টাইপ-১ ডায়াবেটিস রয়েছে এবং তিনি চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে থাকতে পারেন বলে পুলিশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার স্ত্রী জুলিয়ানা জাইরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার স্বামীর নিয়মিত স্বাস্থ্যগত যত্নের প্রয়োজন রয়েছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম আছে কি না, তা নিয়ে পরিবার চিন্তিত।
বিয়ানকির স্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিয়ানকিকে নিরাপদে খুঁজে বের করা।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সরাসরি বাড়ি ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তার স্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আবেগপূর্ণভাবে বলেছেন, তিনি যেন বুঝতে পারেন যে তাকে নিয়ে অনেক মানুষ উদ্বিগ্ন এবং তার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। পরিবারের এই আবেদনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে খুঁজে পেতে সহায়তার আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে।
ইস্ট গ্রিনবুশ পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে দেখছে না। তবে বিয়ানকির স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।
পুলিশ বিশেষভাবে আশপাশের বাসিন্দাদের নিজেদের সম্পত্তি ভালোভাবে পরীক্ষা করতে বলেছে। বাড়ির আশপাশের শেড, গ্যারেজ, গাড়ি এবং অন্যান্য জায়গায় কেউ অবস্থান করছে কি না, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা, দরজার ঘণ্টার ক্যামেরা এবং পথের নজরদারি ক্যামেরার ধারণ করা ভিডিও পরীক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে।বিশেষ করে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরের সময়কার ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোনো বাসিন্দার ক্যামেরায় কালো পোশাক পরা বিয়ানকির মতো কাউকে দেখা গেলে সেই ভিডিও মুছে যাওয়ার আগে সংরক্ষণ করে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। তদন্তকারীরা এমন ছোট তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, যা তার চলাচলের পথ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়নও জানিয়েছে, পুলিশ বিয়ানকির সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং জনগণকে নিজেদের সম্পত্তি ও নজরদারি ক্যামেরা পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিয়ানকির কাছে তার মুঠোফোন বা মানিব্যাগ নেই এবং তার গাড়িও বাড়িতে রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো তথ্যকে সত্য ধরে নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানের ক্ষেত্রে যাচাই না করা দাবি, অনুমান কিংবা ভুয়া দেখার খবর তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই কেউ বিয়ানকিকে দেখেছেন বলে মনে করলে নিজের মতো করে অনুসন্ধান না চালিয়ে সরাসরি পুলিশকে জানানোই নিরাপদ।
যদি কেউ ডমিনিক বিয়ানকিকে দেখে থাকেন, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন অথবা মঙ্গলবার সকাল থেকে তার চলাচলের কোনো দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ হয়ে থাকে, তাহলে ইস্ট গ্রিনবুশ পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।