হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই সেনার
হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে হঠাৎ ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রাণ হারালেন দুই সেনাসদস্য, গুরুতর আহত এক কর্মকর্তা—ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই সেনার
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিকভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের অংশ হিসেবে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ চলছিল। ঠিক সেই সময় ঘটে যায় আকস্মিক দুর্ঘটনা। এতে ট্যাংকের সঙ্গে থাকা দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারান। এ ঘটনায় একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আহত কর্মকর্তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। তবে এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কী কারণে গোলাবর্ষণের সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ট্যাংকটিকে চীনা-উৎপত্তির ‘টাইপ-৫৯’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ তথ্যটি আইএসপিআরের প্রাথমিক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ট্যাংকের নির্দিষ্ট মডেল কিংবা বিস্ফোরণের কারিগরি কারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই যথাযথ।
পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিচয় আবু বকর সিদ্দিক ও তাসনিম রিফাত হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে তাদের বয়স যথাক্রমে ৩০ ও ২৯ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহত আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারকে ঘিরে শোকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
হাটহাজারীর এই দুর্ঘটনা সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যেই ঘটেছে। অনুশীলনের সময় এমন প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে আহত কর্মকর্তার চিকিৎসা ও তাঁর দ্রুত সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পেছনে কারিগরি ত্রুটি, গোলাবারুদ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্তের ফলাফল বা নতুন কোনো তথ্য জানানো হলে পরবর্তী সময়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।