‘৫০০ বছরেও পারবি না', সেই কথার জবাব ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস ডিগ্রি!
‘৫০০ বছরেও পারবি না’—শিক্ষকের সেই তাচ্ছিল্য পেছনে ফেলে ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন, অবশেষে মিলল স্বপ্নপূরণের জবাব।
‘৫০০ বছরেও পারবি না', সেই কথার জবাব ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস ডিগ্রি!
একসময় একজন শিক্ষক বলেছিলেন, ‘তুই ৫০০ বছরেও পারবি না।’ কথাটি হয়তো সেই সময় কানে তীব্র আঘাতের মতো লেগেছিল। কিন্তু সেই অপমানই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিল এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রেরণা। বয়স, সময় কিংবা নানা বাধাকে পেছনে ফেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের খবরটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওসমানী মেডিকেল কলেজকে ঘিরে এই সাফল্যের গল্প সামনে এসেছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—সাফল্যের এই জায়গায় পৌঁছাতে ওই ব্যক্তিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে জীবনের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। যখন অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন ও অবসরের দিকে এগিয়ে যান, তখন তিনি নতুন করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কঠিন পথে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন।
এই ঘটনাটি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের গল্প নয়; বরং বয়সকে অজুহাত না বানিয়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলার একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। শিক্ষাজীবনে শিক্ষকের একটি কথা একজন শিক্ষার্থীর মনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। নেতিবাচক মন্তব্য অনেক সময় মানুষকে ভেঙে দেয়। আবার কখনো সেই কথাই মানুষকে প্রমাণ করার তীব্র ইচ্ছা তৈরি করে। ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস অর্জনের এই ঘটনা সেই দ্বিতীয় দিকটিই সামনে এনেছে।
বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা সহজ কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পড়াশোনা, পরীক্ষা, ব্যবহারিক শিক্ষা, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং নানা ধরনের একাডেমিক চাপ সামলাতে হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে এত কঠিন একটি বিষয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া আরও চ্যালেঞ্জিং। সেই জায়গায় ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস সম্পন্ন করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
প্রকাশিত খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ঘটনাটিকে অনুপ্রেরণার গল্প হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যারা বয়সের কারণে নিজেদের স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে যান, তাদের জন্য এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে বয়স সবসময় চূড়ান্ত বাধা নয়।
তবে এ ধরনের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বা পোস্টে অনেক সময় অতিরঞ্জিত বক্তব্য, অসম্পূর্ণ পরিচয় কিংবা যাচাই না করা তথ্য যুক্ত হয়ে যায়। তাই ‘৫০০ বছরেও পারবি না’—এই কথাটি ঠিক কোন শিক্ষক, কোন সময় এবং কোন পরিস্থিতিতে বলেছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য অতিরিক্ত তথ্য ছাড়া নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।
বর্তমানে নিশ্চিতভাবে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো ৫২ বছর বয়সে এমবিবিএস অর্জনের এই ব্যতিক্রমী সাফল্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে শিক্ষকের সেই পুরোনো তাচ্ছিল্যকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জনের গল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—কেউ আপনার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলেই সেটি আপনার ভবিষ্যতের সত্য হয়ে যায় না। বরং একজন মানুষের সামর্থ্য নির্ধারণ করে তার অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা।
৫২ বছর বয়সে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়েরও প্রতীক। যে বয়সে অনেকে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার কথাই ভাবেন না, সেই বয়সে তিনি নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়েছেন।