‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি
ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ ডাকায় শেকৃবিতে উত্তেজনা, সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত কয়েকজন।
‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লিফটে ওঠার সময়। সেখানে এক জুনিয়র শিক্ষার্থী সিনিয়র শিক্ষার্থীকে প্রচলিতভাবে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে সম্বোধন করেন। বিষয়টি সিনিয়র শিক্ষার্থী শরীফ ভালোভাবে নেননি। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপুরের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে আবার উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িয়ে পড়েন বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটির একটি দিক হলো, একজন শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত সম্বোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত বিরোধ কীভাবে পরে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। শিক্ষাঙ্গনে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, আচরণ ও কথাবার্তার ধরন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তবে একটি শব্দ বা সম্বোধনকে কেন্দ্র করে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপুরে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয় এবং রাতে তা তুমুল মারামারিতে গড়ায়।
অন্যদিকে যুগান্তরের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করার বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।
চ্যানেল২৪ও একই ঘটনাকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলাকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে সংঘর্ষ হিসেবে প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে একজন ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া করার কথাও শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া একাধিক প্রতিবেদনে ঘটনার সূত্র, সময় এবং সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার বিষয়টি মোটামুটি একইভাবে উঠে এসেছে। তবে আহতের সংখ্যা, আহতদের চিকিৎসা, প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সংখ্যা বা দাবি যুক্ত করা ঠিক হবে না।
ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—একজন জুনিয়র শিক্ষার্থীর সম্বোধন কি শারীরিক সংঘর্ষের পর্যায়ে যাওয়ার মতো বিষয় হতে পারে? বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষার জায়গা। সেখানে সিনিয়রদের কাছ থেকে জুনিয়রদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ যেমন প্রত্যাশিত, তেমনি জুনিয়রদের কাছ থেকেও সিনিয়রদের প্রতি সৌজন্য ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য পথ।
শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের নামে ভয় দেখানো, অপমান করা কিংবা শারীরিকভাবে আঘাত করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে জুনিয়রদেরও এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যাতে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হয়।
শেকৃবির মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা শুধু জড়িত শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশের ওপর পড়ে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।