ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনীর ডিভাইসে ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনী সামরিক ডিভাইসের অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ করছে, নজরদারির ঝুঁকি কমাতে নতুন নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিচ্ছে পেন্টাগন দ্রুত।

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনীর ডিভাইসে ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনীর ডিভাইসে ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের সদস্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ফোন ও কম্পিউটারে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি (MAID) বা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় করেছে। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে শত্রুপক্ষ মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে—এমন আশঙ্কার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহিনী প্রায় দুই মাস আগে কম্পিউটার ও মোবাইল ডিভাইসে বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও তাদের উইন্ডোজ ডিভাইসে সম্প্রতি এই ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মোবাইল ডিভাইসে বিজ্ঞাপন আইডি চলতি বছরের শুরু থেকেই বন্ধ করা হয়েছে। 


এর পেছনে মূল উদ্বেগ হলো বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা। বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনব্যবস্থা ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পরে এসব তথ্য ডেটা ব্রোকাররা সংগ্রহ ও বিক্রি করে। ফলে কোনো ব্যক্তির চলাচল, অবস্থান এবং নির্দিষ্ট এলাকায় উপস্থিতির ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। 


মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেন এবং প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের তথ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা কিংবা অন্যান্য আক্রমণের জন্য মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। 


বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার সময় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মে মাসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, তারা এমন একাধিক হুমকির প্রতিবেদন পেয়েছে যেখানে বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক সদস্যদের নজরদারি বা লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। 


তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ করলেই পুরোপুরি নিরাপদ হওয়া যায় না। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপ, নেটওয়ার্ক তথ্য, ডিভাইসের অন্যান্য প্রযুক্তিগত সংকেত এবং ব্যক্তিগত ফোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের বিকল্প পথ থেকে যেতে পারে। 


রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন আইনপ্রণেতা হ্যারিগান বলেন, শত্রুপক্ষ যেন কেবল অর্থ খরচ করে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করার মতো তথ্য কিনতে না পারে। পেন্টাগন জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাব সরাসরি দেওয়া হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর