৯/১১-তে বাবাকে হারানো পরিবারের কাছে নাতনিই হয়ে উঠেছে স্মৃতির সেতু

২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত যে শুধু ইতিহাসের পাতায় নেই, বরং অসংখ্য পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনে বেঁচে আছে—ভিকি ও তাঁর পরিবারের গল্প তারই আবেগঘন উদাহরণ।

৯/১১-তে বাবাকে হারানো পরিবারের কাছে নাতনিই হয়ে উঠেছে স্মৃতির সেতু

৯/১১-তে বাবাকে হারানো পরিবারের কাছে নাতনিই হয়ে উঠেছে স্মৃতির সেতু


২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় স্বামীকে হারিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ভিকি হিগলি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩০ বছর। তাঁর স্বামী রবার্ট হিগলি নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে হামলায় নিহত হন।

সেই সময় ভিকির চার বছর বয়সী একটি মেয়ে ছিল। তিনি দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের অপেক্ষায় ছিলেন এবং স্বামীকে হারানোর সময় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ২৫ বছর পরও সেই শোক পুরোপুরি মুছে যায়নি। তবে পরিবারের নতুন প্রজন্মে তিনি স্বামীর স্মৃতিকে নতুনভাবে খুঁজে পেয়েছেন। 

ভিকির আট বছর বয়সী নাতনি রুবি কখনো তার দাদাকে দেখেনি। কিন্তু ভিকির চোখে রুবির চেহারা, আচরণ, রসবোধ ও কিছু স্বভাব তাঁর প্রয়াত স্বামীর সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। এই মিলই ভিকির কাছে গভীর আবেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। 

রুবি ছবি আঁকা, রং করা, গান ও অভিনয় করতে ভালোবাসে। ভিকি মনে করেন, তাঁর স্বামী বেঁচে থাকলে নাতনির প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতেন। তাই রুবিকে ঘিরে পরিবারের আনন্দের মধ্যেও প্রিয় মানুষটিকে হারানোর কষ্ট বারবার ফিরে আসে। 

ভিকি এখন ৫৫ বছর বয়সী। গত এক বছরে তাঁর পরিবারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দুই মেয়ে বিয়ে করেছেন এবং ভিকিও নতুন করে সংসার শুরু করেছেন। এসব আনন্দের মুহূর্তে স্বামীর অনুপস্থিতি আরও বেশি অনুভূত হয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে ভিকির শোকের ধরন বদলেছে। তিনি জানান, এখন তিনি নিজেকে শুধু একজন ভুক্তভোগী হিসেবে দেখেন না। বরং পরিবারকে শক্তভাবে দাঁড় করানো এবং প্রয়াত স্বামীর স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ধরে রাখার মধ্যেই তিনি নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। 

রুবি এখনও তার দাদার মৃত্যুর বিস্তারিত জানে না। সে শুধু জানে, তার একজন দাদা ছিলেন, যিনি এখন স্বর্গে আছেন। ভিকি এভাবেই শিশুটির কাছে দাদার স্মৃতিকে সহজভাবে ধরে রেখেছেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর