২৮০০ কিলোমিটার ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর সম্পন্ন, বদোদরায় ৩৫ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প উদ্বোধন
বদোদরায় ৩৫ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প উদ্বোধন, ২৮০০ কিলোমিটারের বেশি ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর সম্পন্ন, ভারতের পণ্য পরিবহনে তৈরি হলো গতি।
২৮০০ কিলোমিটার ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর সম্পন্ন, বদোদরায় ৩৫ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প উদ্বোধন
ভারতের অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। দেশটির ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর নেটওয়ার্কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার গুজরাটের বদোদরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমাঞ্চলীয় ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উদ্বোধন করেন।
একই অনুষ্ঠানে রেল, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতের ৩৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়।
নতুন উদ্বোধন করা পশ্চিমাঞ্চলীয় ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের তিনটি অংশের মোট দৈর্ঘ্য ৩২৬ কিলোমিটার। এসব অংশ চালু হওয়ায় ভারতের শিল্পাঞ্চল, উৎপাদনকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর হলো পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য নির্মিত বিশেষ রেলপথ। এর ফলে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনকে একই রেলপথ ব্যবহারের চাপ কমবে এবং পণ্য পরিবহনের গতি ও সক্ষমতা বাড়বে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় করিডরটি দিল্লির দাদরি থেকে মহারাষ্ট্রের জওহরলাল নেহরু পোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই করিডর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের অবকাঠামো এমনভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে মানুষ ও পণ্য দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছাতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
মোদি আরও জানান, জওহরলাল নেহরু বন্দর থেকে বদোদরা পর্যন্ত ডাবল-স্ট্যাক কনটেইনার ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে এক ট্রিপেই বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি এমন ট্রিপ ২৫০টির বেশি ট্রাকে পরিবহনযোগ্য পণ্যের সমপরিমাণ পণ্য বহন করতে পারে।
বদোদরার অনুষ্ঠানে ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের পাশাপাশি নতুন রেল ও মহাসড়ক প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনটি নতুন রেল প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২৯ কিলোমিটার এবং এসব প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৭০০ কোটি রুপির বেশি।
এ ছাড়া গুজরাটে জাতীয় মহাসড়ক-৪৮ ও জাতীয় মহাসড়ক-৫৩-সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে যানজট কমানো, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ভারতের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনায় ‘গতি শক্তি’ উদ্যোগের অধীনে রেল, সড়ক, বন্দর ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের সম্প্রসারণ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদনকেন্দ্র থেকে বন্দরে দ্রুত পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হলে সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়বে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
২ হাজার ৮০০ কিলোমিটারের বেশি ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর নেটওয়ার্ক সম্পন্ন হওয়া ভারতের রেল ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।