দেশের মুজিব কর্নার বদলে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার করার প্রস্তাব সংসদে

মুজিব কর্নার সংস্কার করে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নারে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন এমপি মারদিয়া মমতাজ; সরকার বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।

দেশের মুজিব কর্নার বদলে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার করার প্রস্তাব সংসদে

দেশের মুজিব কর্নার বদলে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার করার প্রস্তাব সংসদে


দেশের সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’ সংস্কার করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে এক সম্পূরক প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

সংসদে মারদিয়া মমতাজ বলেন, আগের সরকারের সময়ে একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিব কর্নার স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর এসব কর্নারের নোটিশ ও শিরোনাম সরিয়ে নেওয়া হলেও অনেক জায়গায় কর্নারের কাঠামো ও তাক অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ওই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ হাজার ৭০০ কপি বই সরবরাহ করা হয়েছিল। সংসদে তিনি দাবি করেন, কর্নারগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন বই দেওয়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে তাঁর পছন্দের খাবার সম্পর্কিত বইও ছিল।

মারদিয়া মমতাজের প্রস্তাব হলো, বিদ্যমান অবকাঠামো নষ্ট না করে সেগুলো সংস্কার করে সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তাঁর মতে, এভাবে পাঠাগারগুলোকে নতুনভাবে ব্যবহার করা হলে তা দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে।


সংসদে দেওয়া প্রস্তাবের জবাবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট পাঠাগারগুলোর তালিকা এবং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা রূপরেখা দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজকে অনুরোধ করেন। এরপর আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।


দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট পাঠাগারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। অর্থাৎ, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে কোন কোন পাঠাগার এর আওতায় আসবে এবং কীভাবে কর্নারগুলো সংস্কার করা হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করতে হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর