নিউইয়র্ক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের একের পর এক পদোন্নতি
নিউইয়র্ক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক পদোন্নতিতে প্রবাসী কমিউনিটিতে আনন্দ, গর্ব ও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের একের পর এক পদোন্নতি
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্যদের জন্য এসেছে একাধিক গর্বের খবর। পুলিশ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে একসঙ্গে একাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সদর দপ্তরে আয়োজিত পদোন্নতি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের মধ্যে নয়জন পুলিশ কর্মকর্তা থেকে সার্জেন্ট এবং তিনজন সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাজেদুর রহমান লেফটেন্যান্ট স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট পদে দায়িত্ব পেয়েছেন।
সাজেদুর রহমানের এই পদোন্নতিকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ২০০৮ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০১৬ সালে সার্জেন্ট এবং ২০২১ সালে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন। দীর্ঘদিন বিভাগের অপরাধ বিচার ব্যুরোর প্রশাসনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিশেষ দায়িত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজেদুর রহমানের পাশাপাশি একই সময়ে আরও নয়জন বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট এবং তিনজন সার্জেন্ট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছেন। তাঁদের এই অগ্রগতি নিউইয়র্ক পুলিশের মতো বড় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের উপস্থিতি তুলে ধরছে।
এদিকে ২০২৬ সালের ২৮ মে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আরেকটি পদোন্নতি অনুষ্ঠানে তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাও নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁরা হলেন তান্নি চন্দা, সাফায়েত জামিল এবং আশফাকুর রহমান। তান্নি চন্দা সার্জেন্ট পদে এবং সাফায়েত জামিল ও আশফাকুর রহমান গোয়েন্দা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এসব অর্জন শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; পুরো বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও এটি গর্বের বিষয়। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তাঁরা যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যদের উপস্থিতিও এখন উল্লেখযোগ্য। একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পুলিশ বাহিনীতে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পরিদর্শক, উপপরিদর্শক, ক্যাপ্টেন, লেফটেন্যান্ট, সার্জেন্ট ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাও রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন সহায়ক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পদোন্নতি শুধু পেশাগত সাফল্যের বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান ও গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। বিশেষ করে নেতৃত্বের পর্যায়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে আরও তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকান এই পেশায় আগ্রহী হতে পারেন।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এসব সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে।
তবে উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদোন্নতি হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো একই অনুষ্ঠানের নয়। তাই ‘নয়জনের পদোন্নতি’ এবং মে ২০২৬-এর ‘তিন কর্মকর্তার পদোন্নতি’—দুটি ঘটনাকে এক ঘটনা হিসেবে না দেখাই সঠিক। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুটিই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের সাম্প্রতিক পেশাগত সাফল্যের অংশ।