হ্যারিস কাউন্টিতে সম্পত্তি কর বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়ির মালিকদের বিল বাড়ার আশঙ্কা
হ্যারিস কাউন্টির বাজেট ঘাটতি সামলাতে সম্পত্তি কর বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে, এতে মধ্যম আয়ের বাড়ির মালিকদের ব্যয় বাড়তে পারে আগামী বছর।
হ্যারিস কাউন্টিতে সম্পত্তি কর বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়ির মালিকদের বিল বাড়ার আশঙ্কা
টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে বড় ধরনের সম্পত্তি কর বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কাউন্টির বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে কর্মকর্তারা করের হার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে অনেক বাড়ির মালিকের আগামী বছরের সম্পত্তি করের বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
হ্যারিস কাউন্টির কমিশনাররা প্রায় ৮ শতাংশ সম্পত্তি করের হার বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত হার গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতে পারে। কাউন্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৮ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করতে অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বাড়ির মালিকদের ওপর। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সম্মিলিত করহার প্রতি ১০০ ডলার সম্পত্তিমূল্যের বিপরীতে প্রায় ৬৭ সেন্ট হতে পারে। এর ফলে গড় মূল্যের বাড়ির মালিকের মোট সম্পত্তি করের বিল প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে—যদিও প্রকৃত বিল নির্ভর করবে সম্পত্তির মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য করহারসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
এখানে করের হার এবং করের মোট বিলকে এক বিষয় মনে করা ঠিক হবে না। সম্পত্তি করের চূড়ান্ত বিল নির্ধারণে সম্পত্তির মূল্যায়ন, বিভিন্ন কর কর্তৃপক্ষের হার এবং অন্যান্য স্থানীয় সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখে। হ্যারিস কাউন্টি অ্যাপ্রেইজাল ডিস্ট্রিক্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্পত্তি কর স্থানীয় বিভিন্ন করদাতা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হার এবং সম্পত্তির মূল্য—দুইয়ের ওপর নির্ভর করে।
কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সামনে বাজেট ঘাটতির বড় একটি কারণ হলো বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, আইনশৃঙ্খলা এবং আগের বিভিন্ন ভোটে অনুমোদিত বন্ড প্রকল্পের আর্থিক দায়ও বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাউন্টির ব্যয় উল্লেখযোগ্য। এবিসি১৩-এর একটি সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, হ্যারিস কাউন্টি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ডলার ব্যয় করছে। এই ধরনের বড় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ বাজেটে চাপ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির বিরোধিতাও রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন সম্পত্তি কর আরও বাড়ালে বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। বিশেষ করে যেসব পরিবার ইতোমধ্যে বাড়ির ঋণ, বীমা, ইউটিলিটি এবং দৈনন্দিন খরচের চাপ সামলাচ্ছে, তাদের জন্য বাড়তি কর উল্লেখযোগ্য বোঝা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির বিষয়টি হ্যারিস কাউন্টির ভবিষ্যৎ বাজেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কাউন্টির নতুন অর্থবছর ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। ফলে কমিশনারদের সিদ্ধান্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী কর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। হিউস্টন ও হ্যারিস কাউন্টিতে বহু বাংলাদেশি পরিবার বাড়ির মালিক হয়েছেন বা ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন। সম্পত্তি কর বৃদ্ধি হলে মাসিক বা বার্ষিক আবাসন ব্যয়ের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে সম্পত্তি কর ও বীমার অর্থ জমা রাখা হয়, তাদের মাসিক অর্থপ্রদানের পরিমাণও বাড়তে পারে।
তবে এখনই সব বাড়ির মালিকের করের বিল ১২ শতাংশ বাড়ছে—এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলা যাবে না। বর্তমানে এটি একটি প্রস্তাব, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থানীয় কমিশনারদের ভোট ও বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়ির বাজারমূল্য কমে গেলে করের প্রভাব কীভাবে পড়বে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হ্যারিস কাউন্টিতে সাম্প্রতিক সম্পত্তি মূল্যায়নের পরিবর্তন এবং করহার একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তাই শুধু “৮ শতাংশ কর বাড়বে” বললে একজন নির্দিষ্ট বাড়ির মালিকের চূড়ান্ত বিল কত হবে তা বোঝা যাবে না।