ঘরে থেকেই সন্তান পালনে মিলতে পারে সরকারি সহায়তা, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী নির্দিষ্ট বিবাহিত বাবা-মাকে সরকারি শিশু যত্ন সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি এই সুবিধা।

ঘরে থেকেই সন্তান পালনে মিলতে পারে সরকারি সহায়তা, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা

ঘরে থেকেই সন্তান পালনে মিলতে পারে সরকারি সহায়তা, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা


যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানকে বাড়িতে রেখে নিজেই লালন-পালন করা বিবাহিত বাবা-মায়ের জন্য নতুন ধরনের সরকারি সহায়তার পথ তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট কিছু পরিবারে একজন বাবা বা মা কর্মক্ষেত্রে থাকবেন, আর অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলেও তারা ফেডারেল শিশু যত্ন সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন।

তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বর্তমানে এ নিয়ে একটি খসড়া নিয়ম তৈরির পর্যায়ে রয়েছেন। প্রস্তাবটি প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ সামনে এনেছে এবং এটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় অভিভাবক নিজে সন্তানকে দেখাশোনা করলে সেটিকেও শিশু যত্নের একটি যোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত দম্পতির একজন বাবা বা মা বাড়িতে থেকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করলে এবং অন্যজন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে পরিবারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারে। পরিবারের আয়ও নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

এই সহায়তার অর্থ দেওয়ার জন্য নতুন করে আলাদা কোনো তহবিল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের আওতাধীন শিশু যত্ন ও উন্নয়ন তহবিল থেকেই অর্থ ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। এই ফেডারেল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারকে শিশু যত্নের খরচ বহনে সহায়তা করা, যাতে বাবা-মা কাজ, পড়াশোনা বা চাকরির প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন।

বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় বিপুলসংখ্যক পরিবার শিশু যত্ন সহায়তা পেয়ে থাকে। এসব পরিবারের বড় একটি অংশে একক বাবা বা মা কর্মজীবী এবং তাদের সন্তানদের যত্নের জন্য সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন করে ঘরে থাকা বিবাহিত অভিভাবকদের একই তহবিলের আওতায় আনা হলে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা।

বর্তমান কর্মসূচির আওতায় প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রত্যেক পরিবার বা প্রত্যেক ঘরে থাকা অভিভাবক ঠিক এই পরিমাণ অর্থ পাবেন—এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো নেই। সহায়তার প্রকৃত পরিমাণ পরিবারের আয়, অঙ্গরাজ্যের নিয়ম এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করতে পারে।

প্রস্তাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর বৈবাহিক শর্ত। বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করবেন এবং অন্যজন কাজ করবেন—এমন বিবাহিত দম্পতিই এই নতুন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। অবিবাহিত দম্পতির ক্ষেত্রে একই সুবিধা দেওয়ার কথা খসড়ায় নেই। একইভাবে, কাজ না করা একক অভিভাবকরাও এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন না।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে বৃহত্তর পারিবারিক নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও রক্ষণশীল নীতিবিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সন্তান লালন-পালনে বাবা-মায়ের সরাসরি ভূমিকা আরও উৎসাহিত করা উচিত। তাদের মতে, একজন অভিভাবক যদি কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পরিবর্তে বাড়িতে থেকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করেন, সেই কাজকেও শিশু যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান নিয়েছেন। নতুন খসড়া পরিকল্পনায় তার নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটির কিছু ধারণার সঙ্গে রক্ষণশীল নীতি-পরিকল্পনা ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর প্রস্তাবেরও মিল রয়েছে, যেখানে ঘরে থাকা অভিভাবকদের সন্তান পালনের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছিল।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মূল আশঙ্কা হলো—নতুন কোনো অর্থ যোগ না করে একই তহবিল থেকে নতুন শ্রেণির পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হলে বর্তমানে যারা শিশু যত্নের জন্য সরকারি অর্থ পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে একক কর্মজীবী বাবা-মা এবং শিশু যত্নকেন্দ্রগুলো এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রস্তাবটির আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শুধু বিবাহিত হওয়ার ভিত্তিতে সুবিধা নির্ধারণ করা আইনগতভাবে কতটা টেকসই হবে এবং ব্যক্তিগত অভিভাবকদের সরাসরি অর্থ দিলে তা অপব্যবহার বা জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়াবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশু যত্নের খরচ ও সরকারি সহায়তার চাহিদা ইতোমধ্যেই বড় একটি সমস্যা। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনেক যোগ্য পরিবার শিশু যত্ন সহায়তার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। ফলে বিদ্যমান তহবিলের অর্থ নতুনভাবে ভাগ করার প্রস্তাব সামনে আসায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী নির্দিষ্ট কিছু বিবাহিত পরিবারকে সরকারি শিশু যত্ন সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন সত্যিই বিবেচনা করছে। তবে এটি এখনো কার্যকর কোনো সরকারি সুবিধা নয়। খসড়া নিয়ম চূড়ান্ত হলে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে এটি কার্যকর হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর