‘দেশটা আমার, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন’—দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে নতুন বক্তব্য ‘দেশটা আমার’, কেন আমাকে ফিরতে দেওয়া হবে না?

‘দেশটা আমার, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন’—দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা

‘দেশটা আমার, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন’—দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা


ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারের সঙ্গে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরা, নিজের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রশ্ন তোলেন—“দেশটা আমার। আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। আমাকে কেন ফিরতে দেওয়া হবে না?” তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর মাসেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কারণ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস।

দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি প্রকাশকারী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার সময় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে শেখ হাসিনার। তিনি বিমানবন্দরেই হামলা বা হত্যার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ঝুঁকি থাকলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে মে ২০২৬-এ দ্য ওয়ালকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলাদেশে কখন এবং কীভাবে ফিরবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের। তিনি তাঁর শক্তির উৎস হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ ও তাদের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছিলেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তানি কারাগারে বন্দিত্ব ও মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজেকে তাঁর মেয়ে হিসেবে উল্লেখ করেন।

দ্য ওয়ালের ওই সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা তাঁর অতীতের দেশে ফেরার ঘটনাগুলোর সঙ্গেও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন এবং ২০০৭ সালে ফিরেছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে। এবার তাঁর দাবি, দেশের পুনর্গঠনের জন্য তাঁকে ফিরতে হবে।

তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বর্তমানে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে আইনি ও কূটনৈতিক বিষয়ও জড়িত। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। শেখ হাসিনা ওই রায় ও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা জানান, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে দেশে ফেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি তাঁর জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আগস্টেও তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন। রয়টার্স জানায়, ৫ আগস্ট ২০২৬ নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরবেন এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর ওই প্রকাশ্য বক্তব্যের সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অপমানজনক বলে সমালোচনা করে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত চেয়ে আসছে। রয়টার্সের আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটির ক্ষেত্রে আগের মতো একে সম্পূর্ণ ভুয়া বলা ঠিক হবে না। “দেশটা আমার। আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। আমাকে কেন ফিরতে দেওয়া হবে না?”—এই বক্তব্যটি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারের সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও একাধিক পৃথক প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে।

তবে “নাগরিকত্ব” নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অতিরিক্ত দাবি ছড়াচ্ছে, সেগুলোকে এই সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন—এটি নিশ্চিত; কিন্তু তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন—এমন দাবি আলাদাভাবে নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর