এক বছর ধরে নিখোঁজ রূপা, মেয়েকে ফেরত চান কাঁদতে কাঁদতে মা স্বপ্না

এক বছর ধরে নিখোঁজ ছোট্ট রূপা, মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের কান্না, সন্ধান পেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আকুল আবেদন

এক বছর ধরে নিখোঁজ রূপা, মেয়েকে ফেরত চান কাঁদতে কাঁদতে মা স্বপ্না

এক বছর ধরে নিখোঁজ রূপা, মেয়েকে ফেরত চান কাঁদতে কাঁদতে মা স্বপ্না


এক বছর ধরে মেয়ের অপেক্ষায় মা; কেউ রূপার সন্ধান জানলে পরিবারকে খবর দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন স্বজনরা আজ।

রাজধানীর পল্লবী থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পরও তিন বছর বয়সী রূপা আক্তারের সন্ধান মেলেনি। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখনো পথ চেয়ে আছেন তাঁর মা স্বপ্না আক্তার। দীর্ঘ সময় ধরে থানায় যোগাযোগ, বিভিন্ন স্থানে খোঁজ এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে মেয়েকে খুঁজে বেড়ালেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি তিনি।

রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ অনুষ্ঠানে মেয়ের ছবি হাতে উপস্থিত হন স্বপ্না। সেখানে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে রূপাকে খুঁজে দেওয়ার আবেদন জানান।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ আগস্ট রাজধানীর পল্লবী এলাকায় বাসার কাছ থেকে নিখোঁজ হয় রূপা। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে নিখোঁজ হওয়ার পর একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে এক তরুণের সঙ্গে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই রূপাকে খুঁজতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার পর পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও রূপার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি। মেয়েটি কোথায় আছে, কার কাছে আছে কিংবা কী অবস্থায় আছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা পরিবারের কাছে।

স্বপ্না আক্তার বলেন, সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা তিনি এখনো ছাড়েননি। মেয়েকে কেউ খুঁজে দিতে পারলে নিজের ভিটেবাড়ি পর্যন্ত পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া।

অনুষ্ঠানে শুধু রূপার পরিবার নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। প্রায় ৪০টি পরিবার তাদের সন্তানদের ছবি ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নিয়ে উপস্থিত হয়। অনেক পরিবার জানিয়েছে, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর ধরে তারা সন্তানদের সন্ধান করছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্বজনদের বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ অপেক্ষার কষ্ট, অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত সন্তানদের সন্ধান পাওয়ার আকুতি। অনেক পরিবার অভিযোগ করে, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর শুরুতে ব্যাপকভাবে খোঁজাখুঁজি হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের গতি কমে যায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৭ হাজার ৮০৮টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়। এসব ঘটনার একটি বড় অংশে শিশুদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে পুলিশের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘মুন অ্যালার্ট’ নামে একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চালুর কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সহায়তার জন্য ১৩২১৯ নম্বরের একটি হেল্পলাইনের কথা তুলে ধরা হয়।

রূপার পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, নতুন প্রযুক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান বের করা সম্ভব হবে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে রূপার অপেক্ষায় থাকা তাঁর মা এখনো বিশ্বাস করেন, কোনো একদিন দরজায় ফিরে আসবে তাঁর ছোট্ট মেয়ে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রূপার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে সন্ধান চাওয়া হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ রূপাকে কোথাও দেখে থাকলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকলে নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশ কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সামান্য একটি তথ্যও দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর