যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা নয়জনে স্থায়ী করার রিপাবলিকান উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে নয় জন বিচারপতি রাখার প্রস্তাব হাউসে ব্যর্থ হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা নয়জনে স্থায়ী করার রিপাবলিকান উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা নয়জনে স্থায়ী করার রিপাবলিকান উদ্যোগ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা নয়জনে সীমাবদ্ধ রাখার একটি সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে। রিপাবলিকানদের উদ্যোগটি ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার মুখে প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোটে প্রস্তাবটি ২১২-২০৬ ব্যবধানে পরাজিত হয়। 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে নয়জন বিচারপতি থাকলেও মার্কিন সংবিধান সরাসরি বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করে না। কংগ্রেস আইন করে আদালতের আকার পরিবর্তন করতে পারে। সেই কারণেই ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আদালতের আকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

রিপাবলিকানদের প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল নয়জন বিচারপতির বর্তমান কাঠামোকে সাংবিধানিকভাবে স্থায়ী করা। এর ফলে ভবিষ্যতে কংগ্রেস আইন করে বিচারপতির সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারত না।

ডেমোক্র্যাটরা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, সংবিধানে আদালতের আকার নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রাখার ঐতিহাসিক কাঠামো পরিবর্তন করা উচিত নয়।

বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষভাবে রাজনৈতিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্বাহী আদেশ ও নীতিকে কেন্দ্র করে গত দুই বছরে বহু মামলা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রশাসনের কিছু নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে আদালতের গঠন নিয়ে বিতর্ক শুধু ট্রাম্পকে ঘিরে নয়। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও অতীতে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রসারণের আলোচনা হয়েছে। ফলে বিচারপতির সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ।

বর্তমান ভোটে প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও বিষয়টি ভবিষ্যতে আবার সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলালে আদালতসংক্রান্ত আইন নিয়েও নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখা যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা আজীবন পদে থাকতে পারেন। ফলে একটি নিয়োগ বহু দশক ধরে আদালতের আদর্শিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণেই বিচারপতির সংখ্যা, নিয়োগ এবং আদালতের ক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক আগ্রহ এত বেশি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর